একাত্তরের মার্চ। উত্তাল ঢাকা শহর। প্রচণ্ড উত্তেজনায় ঘামছে সারা দেশ। সবার বুকে টান টান উত্তেজনা। এবার কী হবে! হিসেব মতো পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা এবার ইয়াহিয়ার কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হাতে আসার কথা। পাকিস্ত ানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আমাদের প্রাণের নেতা জিতেছেন। তাই আর ৬ দফা বা ১১ দফা নয়, স্বাধীকার চাই আমরা। দেশ শাসনের একচেটিয়া অধিকার। ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রলীগের উদ্যোগে স্বাধীন বাংলার জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়। গাঢ় সবুজ জমিনে লাল টকটকে সূর্য। তার ভেতর হলুদ-সোনালি রঙা বাংলাদেশের কল্পচিত্র। পতাকার ডিজাইন করেন শিল্পী শিব নারায়ণ দাস। নিউমার্কেটের 'অ্যাপোলো' থেকে কাপড় কিনে 'পাক ফ্যাসন' নামের দোকানে এক অবাঙালি দর্জি সেলাই করেন এই পতাকা। বটতলায় উপস্থিত ছাত্র-জনতা একের পর এক পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে, তার বদলে লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে বিপুল আনন্দধ্বনি করতে থাকে।