গত কিছু দিন ধরেই বিক্রমপুর অঞ্চলের সবার মুখে মুখে এই কথাটা খুব রটছিল যে বিক্রমপুর অঞ্চলের একসময়কার দোর্দণ্ডপ্রতাপ ভাগ্যকূলের জমিদাররা পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে চলে যাচ্ছে। ১৯৪৭-য়ের দেশভাগের আগে-পরে এই বিশাল পরিবারের কেউ কেউ কলকাতায় গেছে বটে,কিন্তু এবারে সবাই-ই চলে যাচ্ছে। এবং একেবারেই। কেউই আর এদেশে থাকবে না। জমিদারবাড়ীর ঘাটে বাঁধা বিশাল নৌকায় মালপত্র তোলা হচ্ছে এটাও আজ দেখে এসেছে কেউ কেউ। লোকজন অবাক হয়ে বলাবলি করছে ভাগ্যকূলের জমিদাররা পূর্ব- পাকিস্তান ছেড়ে চলে গেলে পদ্মার,বা যে নদীর আরেক নাম কীর্তিনাশা,সে নদীর পারে জমিদারবাবুদের অত বিশাল বাড়ী দু’টোর কী হবে? সেদিন সকালে আড়িয়াল বিলের পাশে সাতগাঁও গ্রামের নিধু নাপিত এসেছে সোহরাবদের বাড়ীতে চুল কাটতে। উঠোনের পেয়ারা গাছতলায় ঘাড় নীচু করে বসে রয়েছে বছর দশেকের বালক সোহরাব। ওর গায়ে নিধু নাপিতের দেয়া প্রায় কালচে হয়ে যাওয়া ময়লা একটা সাদা চাদর। কট্ কট্ করে নিধু নাপিত সোহরাবের ঘাড়ের পিছনে ক্ষুরের মেশিনটা চালাচ্ছে। নজীব চাচা তীক্ষ্ম নজর রাখছেন; “পোলাপান এত বড় চুল রাখবো ক্যান্!…