'শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড' অতি-পুরাতন এই কথাটিকে আমরা যদি সত্যি বলে মানি তবে আমাদের বর্তমান দুরবস্থার কারণ উপলব্ধিতে কারোই বোধহয় অসুবিধা হবার কথা নয়। এমনিতে একটি দেশ বা জাতির গন্তব্য বা অভিমুখ নির্ধারণে তার শিক্ষাব্যবস্থাই মূল ভূমিকা পালন করে। সেদিক থেকে নিঃসন্দেহে বলা যায় আমরা একটি দিকদিশাহীন যাত্রায় রয়েছি। জাতিগঠন প্রচেষ্টায় সহায়তা করার পরিবর্তে আমাদের চালু শিক্ষাব্যবস্থা বরং তাকে বাধাগ্রস্তই করছে। সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই আমাদের শিক্ষাবিদ, লেখক, বুদ্ধিজীবী, চিন্তাবিদরা মাতৃভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে অভিন্নধারার শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের পক্ষে তাঁদের মত ব্যক্ত করে আসছেন। পুরো পাকিস্তান পর্বে শুধু যে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রাদর্শে বিশ্বাসীরাই এই মতের সমর্থনে বক্তব্য রেখেছেন তা নয়, এমনকি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, ইব্রাহীম খাঁ, হাসান জামানের মতো পাকিস্তানবাদী বুদ্ধিজীবীরাও ধর্মশিক্ষার ব্যবস্থা রেখে অন্তত একটা স্তর পর্যন্ত একই ধারার শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে তাঁদের মত প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে প্রচলিত মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী নয় বলে উল্লেখ করে এর ব্যাপক সংস্কার ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তাঁরাও কমবেশি জোর দিয়েই বলেছেন।