ট্রেন চারটার মধ্যে এসে পৌঁছে কমলাপুর রেল স্টেশনে। ভোর হতে এখনও দু'ঘণ্টা বাকি। এতক্ষণ কী করবে ফজর আলী? এমনিতে নতুন জায়গা তার উপর সারা রাত ঘুমোয়নি। মাথাটা ঝিমঝিম করছে। সবগুলো বেঞ্চই লোকজনে ভরা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটা আসন খালি পায়। একদম কোণার একটা বেঞ্চের দু'পার্শ্বে দুজন বসে আছে। মাঝখানটাতে খালি। ফজর আলী চুপচাপ জায়গাটা দখল করে। বাম হাতের নিচে ব্যাগটা রেখে একটু আরাম করে বসে, হেলান দিয়ে। মুহূর্তের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে সে।
ফজর আলীর ঘুম ভাঙে তখনই, যখন তার গায়ে এসে লাগে সকালের কড়া রোদ। শরীরের মধ্যে কেমন যেন চুলকাতে থাকে, কিন্তু চোখের পাতা খুলতে পারে না। আপনা-আপনিই আটকে আসে। জোর করে তাকাতে চেষ্টা করে। ব্যাগের জন্য বাম দিকে হাত বাড়ায়। সংবিৎ ফিরে পায় তখনই। ব্যাগ তো দূরের কথা, আশেপাশে লোকজনের বালাই নেই।