আমাদের চারপাশে পরম বন্ধু হয়ে থাকা উদ্ভিদ নিয়ে অজস্র ভাবনা ছড়িয়ে আছে। অনেকেই সেসব দেখেন বা অনুভব করেন, এ-পর্যন্তই। কিন্তু চারপাশের চেনা এই জগৎ নিয়ে খুব বেশি গভীর ভাবনায় আচ্ছন্ন হতে দেখা যায়-এমন মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা। উদ্ভিদ নিয়ে একজন সাধারণ মানুষ যা দেখেন তার বাইরের অচেনা ভুবনকে উপস্থাপন করাই মূলত এ বইয়ের প্রতিপাদ্য।
বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ছড়িয়ে থাকা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদের একটি বড়ো অংশের বসবাস বাস্তুসংস্থানগুলোকে ঘিরে। এই বইয়ে এমন ৪টি স্থানের গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদের কথা বিবৃত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের প্রকৃতিসাহিত্যের
রাজাধিরাজ। তিনি সমগ্র সৃষ্টিতে যে পরিমাণ বৃক্ষ, লতা ও গুলোর উল্লেখ করেছেন তা বিশাল ও ব্যাপক। কিছু কিছু বিদেশি বৃক্ষকে তিনি নাম দিয়ে আপন করে নিয়েছেন। এই গ্রন্থে বহুমাত্রিক রবীন্দ্রনাথকে উদ্ভিদ ও প্রকৃতির অন্য আলোয় পাঠ করা যাবে। আছে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরণ্যকের পুষ্প-বৃক্ষের কথাও। নজরুলের পুষ্পমালা বা ফুল-পাখির জীবনানন্দ এই বইয়ের বিশেষ দিক। এ ছাড়া ব্রিটিশ অরণ্য-তরুসন্ধানী জে, ডি. হুকারের নেপাল ও বাংলাদেশ ভ্রমণের চমকপ্রদ বৃত্তান্তের কিছু উদ্ধৃত অংশের কারণে বইটি পাঠকদের জন্য পরম পাওয়া হয়ে থাকবে।