আগামীকাল বদন মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীর মিলাদ অনুষ্ঠান। প্রতি বছরই বৈশাখের এই দিনটিতে নিজের সাধ্য মতো কম বেশি খরচ করেন রাবেয়া বেগম। আজ সকাল থেকেই কাজে মন নেই তার, হেঁশেলেও ঢুকতে ইচ্ছে হয়নি। তাই নাস্তা না খেয়েই বসে আছেন ঘরের দাওয়ায়। দোচালা ঘরের চালা দুখানি টিনের, সামনে একটুখানি দাওয়া উপর ছনের ছাউনি। মুঠখানেক পানি ভাত যা ছিল কাঁচা ঝাল আর পিয়াজ ডলে তা খেয়ে নিয়েছে মজিদা। তার আবার ক্ষিদে সহ্য হয় না।
প্রতি বছরই ভায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে দু'দিন আগেই শশুর বাড়ি থেকে চলে আসে সে। অন্য বছর গুলিতে মজিদার স্বামীও সঙ্গে আসেন তার। কিন্তু এবার আসতে পারেনি। ধান কাটা পড়েছে। পাকা ধান, বৈশাখী বাতাসের কোন বিশ্বাস নেই। কখন এসে এক ঝটকায় মাটিতে মিলিয়ে দেবে সব। তাই একাই আসতে হয়েছে মজিদাকে। আধাছেঁড়া একটি মাদুর পেতে আনমনে বসে আছেন রাবেয়া বেগম। আর বার-বার তার দৃষ্টি ছুটে যাচ্ছে পথের দিকে। আজ বাড়িতে আসবে বিপ্লব। এই একটি মাত্র ছেলেকে বুকে ধরে বেঁচে আছেন তিনি।