আজ অপরাহ্নের শেষ সূর্যের আলোটুকু গায়ে মেখে উঠনে বসে আছেন বদন মিয়া। শীতের শেষ। তবুও ঠান্ডার দাপট চলছে মহাসমারোহে। প্রত্যুষের শীতের প্রচন্ডতা টের পাওয়া যায় হাড়ে-হাড়ে। যেন সুক্ষ সোনামুখি সুচের মতো লঘু শব্দে হাড়ে গিয়ে বাঁধে। দিনের শেষে ফুড়িয়ে যাওয়া সূর্যের এই তাপটুকুতে বড় সুখ বোধ হয় বদন মিয়ার।
প্রতিদিনকার এই শেষ সূর্যের সাথে জীবনের যেন একটি মিল খুঁজে পান তিনি। জীবনের এই অপরাহ্নের প্রতিটিক্ষণ যেন ডুবে থাকে পরলোকের ভাবনায়। আর মনের অজান্তেই হিসেব কষতে থাকে ফেলে আসা কৈশোর যৌবনের।
গায়ের র্যাপারটা খুলে পাটির এক পাশে রাখলেন বদন মিয়া। সেই কখন খেয়েছে দুপুরের ভাত। এখনো পাথর হয়ে গজ-গজ করছে পেটের ভেতর। ডান হাতের আঙ্গুলগুলো পেটের বিভিন্ন জায়গায় চালালেন বদন মিয়া। তার পর জোর করে বার দুয়েক ঢেক তোলার চেষ্টা করে ভাবলেন। অম্লটা বোধহয় বেড়েছে। আর এক বার অসুধ আনতে হবে মন কবিরাজের কাছ থেকে।