এক ঝাঁক গুলির শব্দ হলো। ভয় পেয়ে লম্বা ঘাসের ভেতর দিয়ে দৌড় দিল বুনো মোষের পাল। সোজা কিশোর আর রবিনের দিকে। এদিক-ওদিক তাকিয়ে পালানোর কোনো পথ দেখল না দুই গোয়েন্দা। মুসাকেও দেখতে পাচ্ছে না যে কোনো সাহায্য করতে পারবে। মৃত্যু নিশ্চিত,অনুমান করল ওরা… ভাইকিং জলদস্যুদের গুপ্তধন খুঁজতে উত্তর কানাডার নির্জন-দুর্গম বনে গিয়ে হাজির হলো তিন গোয়েন্দা কিশোর মুসা রবিন। হিংস্র জন্তুজানোয়ার আর তারচেয়ে হিংস্র আধুনিক দস্যুদের সঙ্গে বাধল সংঘাত। মানুষখেকো ভালুক,নেকড়ে,কালো মাছির মতো মারাত্মক প্রাণীদের সঙ্গে সঙ্গে বুনো মোষের পালও হয়ে উঠল ওদের চরম শত্রু। কিশোরের চাচা দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা জায়গাটার ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে : ‘গ্রেট স্লেভ লেকের ঠিক উত্তরে বিখ্যাত উড বাফেলো ন্যাশনাল পার্ক,যেখানে পৃথিবীর বৃহত্তম বুনো মোষের পাল বাস করে,কানাডিয়ান সরকারের নিরাপত্তায়। বনে বাস করা ওই বুনো মোষরা মারাত্মক হিংস্র,খুনে জানোয়ার,কোনো কারণ ছাড়াই সব সময় আক্রমণের জন্য মুখিয়ে থাকে। বিশাল জানোয়ার,সারা গায়ে ঝাঁকড়া বড় বড় লোম। পার্কটাতে আরও আছে মেরুশেয়াল,মেরুনেকড়ে,ভয়ংকরতম দানবীয় গ্রিজলি ভালুক। জায়গাটা সুন্দর,তবে বুনো। মানুষের অপঘাতে মৃত্যুর জন্য উপযুক্ত।’