ভূমিকা
একাত্তর সালের কোন সমন্বিত চিত্র আমাদের নেই। ব্যক্তি/পরিবার/গোষ্ঠীর চেতনায় যে বিচ্ছিন্ন চিত্রাবলি আছে তার সমন্বয় সাধনের চেষ্টা হয়নি। যার জন্যে যুদ্ধ কখনো 'সেই সময়' কারো কাছে 'গণ্ডগোল' কারো ভাষায় 'অমানিশার কালো রাত' ইত্যাদি। চিত্রগুলো নেতিবাচক। যুদ্ধ শেষে একজন নেতা বলেছিলেন, ছেলেদের নয় মাস নষ্ট হয়েছে।
যুদ্ধশেষে আমরা মৃত্যুর বেদনা বহন করেছি বুক ভরে, পাকিস্তানিদের অনাচার অত্যাচারের বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছি গল্প কবিতায় অথবা স্মৃতি কথায়। লিপিবদ্ধ করেছি বন্দিত্বের দিন যাপন। কবি শামসুর রাহমান যাকে বলেছেন নরক যাপন। নগরবাসী কবি, আমার জানামতে, যুদ্ধের সময় প্রায় প্রতিদিন স্বাধীনতাকে আবাহন করে, স্বাধীনতার সৈনিকদের স্বাগত জানিয়ে অবিস্মরণীয় কবিতা লিখেছেন। এই কবির সাহচর্য পেয়েছে অবরুদ্ধ ঢাকায় অবস্থানরত প্রত্যক্ষ যোদ্ধারা।
স্মৃতিতে তিনি গ্রামের সবুজ প্রান্তরে গলা উঁচিয়ে গাওয়া কিশোরের বেসুরো গানটিতে অনুপ্রাণিত হয়েছেন: 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি...' কিন্তু তার স্মৃতিতে ভারী বুটের সশব্দ ভয়াবহতার পাশে গেরিলার নিঃশব্দ পদসঞ্চার স্থান পায়নি। নগর কি ছিল শুধু কারাগার, হায়নার হুঙ্কার? রাতের আঁধারে নিঃসাড় চরণে কারা এগিয়ে গেল-কণ্ঠ রোধ করল হায়নার?