আমার ছেলেবেলায় অনেক বিয়ে হতে দেখেছি বর্ষাকালে। শাওন-ভাদ্র মাসে বর যাত্রীরা কলের গান বাজিয়ে কনে বাড়ি গেছে ছৈয়া নৌকায় পাল তুলে, নানা রঙের নিশান সাজিয়ে। ফিরে এসেছে লাল শাড়ি পরা এক টুকটুকে বউ নিয়ে। ফুপা বলেছেন, এ সময়টাতো পাটের মৌসুম। গ্রামের মানুষের হাতে নগদ টাকা আছে এখন। তাই বিয়ে হচ্ছে। এর পর ক্রমেই বড় হয়েছি।
দেখেছি, মহাজনের ঋণ পরিশোধ, ছেলের পড়ার খরচ, মেয়ের গহনা, শহরে জমি কেনা সবই হচ্ছে পাট বিক্রির অর্থ দিয়ে। গ্রামে ও শহরে পাটের জমজমাট ব্যবসা করেছে বহু মানুষ। দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে বাজার, পাট গুদাম, পাটকল ও বাণিজ্য কেন্দ্র। তাতে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেকের। শুধু তাই নয়, বাংলার পাট গেছে যুক্তরাজ্যের ডান্ডিতে, ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশে, রাশিয়ায়, ব্রাজিলে ও আমেরিকায়।