খাদিজা (রাঃ) প্রথম মুসলমান এবং শেষ নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর বিবি
ইতিহাসের প্রতিটি ক্রন্তিলগ্র্নেই সময়োপযুগি মহান ব্যক্তিত্বের জন্ম হয়েছে। খাদিজা (রা.) ছিলেন ইসলামের সূচনালগ্নে ঐরকম একজন মহান ব্যক্তিত্ব। তিনি এক অবিস্মরণীয় জীবন কাটিয়েছেন। তার সেই জীবনের অবদান ও মহাত্ম্য সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা এবং তার প্রিয় হাবীব রাসূল (সা.) বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন। ইসলাম আবির্ভাবের সময়কাল বিবেচনা করে এখানে এমন একজনের ব্যতিক্রমধর্মী জীবনালেখ্য বর্ণনা করা হয়েছে যিনি ছিলেন ইসলামের সর্বযুগের চার শ্রেষ্ঠ মহিলাদের মধ্যে একজন। রাসূল (সা.)-এর উপর অবতীর্ণ হওয়া আল্লাহর বাণীর প্রতি তিনি সর্বান্তকরণে ঈমান এনেছিলেন। খাদিজা (রা.) ইসলামের ইতিহাসে প্রম মুসলমান হিসেবেই শুধু বিখ্যাত নন, বরং তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবেও একইরকম প্রসিদ্ধ। আর তিনি ছিলেন ইসলামের প্রম মুসলিম জনগোষ্ঠির জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা ও সাহায্যের ভাণ্ডার। এখানে রাসূল (সা.)-এর কথা ও কাজের প্রতি তার অতুলনীয় বিশ্বস্ততাকে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি তাকে বর্তমান সমাজের মুসলিম- অমুসলিম সকল নারী-পুরুষের জন্য একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা রাসূল (সা) এর বিবি সঙ্গীনী ফকীহ
এ গ্রন্থে ইসলামের সবচেয়ে উজ্জ্বল এক ব্যক্তিত্বের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। প্রচলিত বিভিন্ন অপবাদ এবং অপব্যাখ্যার প্রেক্ষিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য বিবিদের থেকে উম্মুল মুমিনিন আয়েশা আস-সিদ্দীকা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে আরও বেশি সঠিকভাবে জানা প্রয়োজন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার প্রিয় সাহাবীদের সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ ড. রাশীদ হাইলামায ইসলামের বিশ্বস্ত তথ্য-উপাত্ত থেকে আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার জীবনের উপর বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আলোকপাত করেছেন। এখানে লেখক ইসলামের শিক্ষা বাস্তাবায়নে তার বিশাল ভূমিকা, বিশেষ করে মহিলাদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত আচার-আচরণে ইসলামী জ্ঞানের প্রচার-প্রসারে এবং রাসূলেরর বাণীকে সঠিকভাবে সংরক্ষেণে যে নিবেদিত ভূমিকা রেখেছেন, তা পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেছেন। তার অবিশ্বাস্য ধার্মিকতা, তাকওয়া-পরহেজগারি বিভিন্ন ঘটনায় যেমন মূর্ত হয়ে ওঠে, তেমনি বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়সমূহ যেমন আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর সাথে তার যুদ্ধের ঘটনা- আলাদা বিবৃত হয়েছে।
জীবন ও কর্ম ফাতিমা (রাযি)
ইসলামের আলোতে পৃথিবী আলোকিত হয়ে ওঠার যে ইতিহাস, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শে পৃথিবী সভ্য হয়ে ওঠার যে ইতিহাস, কুরআনের জ্ঞানে পৃথিবী শিক্ষিত হয়ে ওঠার যে ইতিহাস—সেখানে লেখা আছে জান্নাতী নারীদের নেত্রি নবীকন্যা ফাতিমা রাযিয়াল্লাহু আনহার অবদান। লেখা আছে তাঁর অপরিসীম ভূমিকার কথা; তার অকল্পনীয় ত্যাগ-সাধনার গল্প; তার অসীম বীরত্বের কাহিনী। তিনি এমন এক মহীয়সী নারী—যার সমতুল্য সৌভাগ্যের অধিকারী কোনো রমণী আগেও যেমন পৃথিবীতে ছিল না, পরেও আর আগমনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি একজন মানুষ ছিলেন—কোনো ঐশ্বরিক অবতার ছিলেন না। নবীকন্যা হিসেবে তিনি ছিলেন মুমিনদের জন্য আদর্শ, এ উম্মতের জন্য এক অবিস্মরণীয় অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তবে এক শ্রেণির মানুষ তার নামে নানা গল্প-গুজব ও মিথ্যা ইতিহাস বর্ণনা করেছে।
এ থেকে উত্তরণ, নিজের আকীদা-বিশ্বাস সঠিক করা এবং ইসলামের শ্বাশত সত্য-সুন্দর ও শান্তিময় পথে জীবনকে পরিচালিত করার জন্য তার জীবনী পড়া আবশ্যক। এ গ্রন্থে ফাতিমা রাযিয়াল্লাহু আনহার যাপিত জীবনের পাশাপাশি তার সম্পর্কে রচিত বিভিন্ন মিথ্যা বর্ণনা ও অপবাদ খণ্ডন করা হয়েছে। সম্ভবত এ অসাধারণ গ্রন্থটি পাঠ না করে থাকলে ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসই আপনার অজানা থেকে যাবে।