‘সে বিচরণ করছে পরম সুরক্ষিত গহ্বরে। মুসাফিরখানায় তার
আত্মপ্রকাশের আগেই ‘মুসাফির’-এর প্রকাশ ঘটলো। জ্ঞানের আলোয়
যখন নব মুসাফিরের চেতনা উদ্ভাসিত হবে তখন ব্যাপারটা তার কাছে
কতই না মনোমুগ্ধকর মনে হবে। অদেখা, অজানা বিস্ময়কর সেই
মানব হৃদয়কে মুসাফিরখানায় স্বাগতম।’
অপেক্ষার সুদীর্ঘ পথ পেরিয়ে যখন তার আবির্ভাবের কথা শুনলাম তখন
আমি ‘মুসাফির’ নিয়ে ভীষণব্যস্ত প্রহর অতিবাহিত করছিলাম। মুহূর্তের
ভাবনায় তৎক্ষণাত সিদ্ধান্ত নিলাম, মুসাফির গ্রন্থ উৎসর্গ করা হবে এই
অজানা, অদেখা মুসাফিরকে। তারই ফলশ্রুতিতে উপর্যুক্ত কথাগুলো
চয়ন করা হয় এবং বিষয়টার মধ্যে চমকপ্রদ উপাদান থাকায়, এর মধ্যে
অন্যরকম পুলক আবিষ্কার করলাম।
কিন্তু আমরা যা চাই জীবন সব সময় এত সরল ও সহজ হয় না
বলেই পৃথিবী এত বৈচিত্রময় ও অননুমেয়। ঘটনাচক্রে পৃথিবীনামক
মুসাফিরখানা থেকে আমার জীবনের সাথে বিপুল ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত
একজন মুসাফির বিদায় নিলেন। আমার পরম শ্রদ্ধেয় ও সম্মানিত পিতা
রাহিমাহুল্লাহু তায়ালার আচমকা বিদায় আমাকে শোকে মুহ্যমান করে
তুললো। উৎসর্গপত্রের পরিমার্জন আমার নিকট অনিবার্য মনে হলো।
একজন চলে গেলেন, আরেক জন আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে, মুসাফির গ্রন্থের
উৎসর্গপত্রে এই দু’জনের উপস্থিতির কথা বিবেচনা করেই একজনের
পরিবর্তে উৎসর্গপত্রে দু’জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দুই ভুবনের
দুই বাসিন্দার প্রহরগুলো আনন্দ উদ্দীপনায় ভরপুর হয়ে উঠুক এ
কামনায় আসুন আমরা প্রবেশ করি অত্যাশ্চর্য মুসাফির খানায়...