নোয়াখালীর ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্রে সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল ও নবীন অথচ জনবহুল দেশ হিসেবে যার পরিচিতি তার নাম বাংলাদেশ। তবে অসংখ্য খাল-বিল, নদী-নালা যেমন, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা প্রভৃতির সৃষ্টি হয় এবং তাদের বাহিত বালি, পলি, কর্দম ইত্যাদি পলল দ্বারা কালের ব্যাপ্তিতে ক্রমান্বয়ে ঘর্ষণ ও কর্তন ও ভরণ প্রভৃতি প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে থাকে। ফলস্বরূপ নদীবাহিত পলল সঞ্চায়ন ও নানা ধরনের ভূ-প্রাকৃতিক কার্যকলাপের কারণে বিকাশ লাভ ঘটে বাংলাদেশের বিচিত্র ভূমিরূপের। চট্টগ্রাম, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহের কিয়দাংশ ব্যতীত নদীবাহিত কাকর, বালি ও পলি দ্বারা সৃষ্টি হয় নিম্নসমভূমি বিশিষ্ট বাংলাদেশ। তারই ধারাবাহিকতায় নোয়াখালী অঞ্চলও মেঘনা মোহনা পলল ভূমি দ্বারা গঠিত। স্বাভাবিকভাবে এ ভূমি জনবসতির এবং উৎকৃষ্ট স্থান হিসেবে পরিগণিত হয়। কিন্তু মেঘনার অব্যাহত ভাঙ্গন প্রক্রিয়া, নদ- নদীর গতিপথ পরিবর্তন, জলাবদ্ধতা ইত্যাদি বৃদ্ধি পেতে থাকে আর ঘটতে থাকে অভিগমন, স্থানান্তর প্রক্রিয়া, সৃষ্টি হয় নব নব জনপদের, পতন ঘটে পুরাতন জনপদ ও নদী-বন্দরের।