তখন দিনের আলো প্রায় নিভু নিভু। আকাশের সীমান্ত পেরিয়ে নামতে শুরু করেছে রাতের আঁধার; বাড়ির ছাদ, ঝুলবারান্দা আর ঝাঁকড়াচুলো গাছের ঝিরিঝিরি পাতায়। কার্নিসে লেগে থাকা আবছায়া ঘনীভূত হচ্ছে একটু একটু করে। কাচের জানালায় কুয়াশার পাটি বিছিয়ে শুতে যাচ্ছে একদল ছায়া। এমন সময় মধ্যবিত্ত বাতাসের কণ্ঠ রোধে নেচে ওঠে 'হুন্না হুন্না' পালকির গান। সেই গান এসে থামে ঠাকুরবাড়ির মধ্য উঠোনে। গাঢ় হলুদ পাড়ের টুকটুকে লাল পালকিটি চার বেহারার কাঁধ থেকে নামতেই হাতে বরণডালা নিয়ে এগিয়ে আসেন অন্দরমহলের নারীরা।
সেই নারীদের থেকে একটু এগিয়ে যে বধূমা'টি, তার নাম জ্ঞানদানন্দিনী। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের মেজ ছেলে সত্যেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি এসে পালকির দরজা খোলেন। ভেতরে উঁকি মেরে দেখেন, পালকির এক কোণে জড়সড় হয়ে বসে আছে নয় বছরে এক বালিকা বধূ। ফুটফুটে বধূটির নরম হাতে সোনার চুড়ি, গলায় মোতির মালা, আলতা রাঙা পা দু'টিতে সোনার চরণচক্র। জ্ঞানদানন্দিনী পালকির ভেতর থেকে বালিকা বধূটিকে বের করে আনেন।