চল্লিশের দশকে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসাবে ফজলুল হক হলের অধিবাসী ছিলাম। তখন কলকাতা থেকে প্রকাশিত কয়েকটি সাহিত্য-পত্রিকা আমি নিয়মিতভাবে পড়তাম। এই পত্রিকাগুলির মধ্যে ছিল "পরিচয়", "পূর্বাশা” ও "সওগাত”। পত্রিকাগুলির মাধ্যমে দু'জন উদীয়মান লেখকের ছোটগল্পের প্রতি আমার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। এঁরা ছিলেন সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ও শামসুদ্দীন আবুল কালাম। "পরিচয়” পত্রিকায় শামসুদ্দীন সাহেবের ছোটগল্প “মনু” পড়ে নিশ্চিত হলাম, তিনি একদিন খ্যাতির শিখরে উন্নীত হবেন।
দারিদ্র্য-পীড়িত কৃষক পরিবারের একমাত্র সম্বল ছিল একটি গরু। আদর করে তার নাম দেওয়া হয়েছিল "মনু”। এই গল্পে লেখক দক্ষিণ বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে এক সাধারণ কৃষকের জীবন- সংগ্রামের হৃদয়স্পর্শী কাহিনী বর্ণনা করেছেন। বিশ্বযুদ্ধ ও মহা-মন্বন্তরের দশকে প্রকাশিত এই গল্প রীতিমত সাড়া জাগিয়েছিল। সামাজিক বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে রচিত এই কাহিনী একটি অপূর্ব সাহিত্যকর্ম বলে স্বীকৃত হয়। শামসুদ্দীন সাহেব কলকাতার ছাত্র ছিলেন বলে আমার সঙ্গে তখন পরিচয়ের সুযোগ হয়নি।