আমি ভুলিনি যে নাটকের প্রাচীন এক বর্ণনা: দৃশ্যকাব্য। কাব্যের ওই দৃশ্যতা গড়ে ওঠে দেহছন্দ আর কথাছন্দ এই দুই পাখার উড্ডয়নে, নাটকের বিষয় তথা বক্তব্যকে বলতে পারি পাখিটির শরীর। এই চিত্রকল্প যত মনোহরই হোক, আমাদের অভ্যাসবশে যতই না লীলায়িত অভিধায় 'কাব্য' এসে বোধিতে দাঁড়াক, নাটক মনোহরণেরও উপকরণ নয়, নাটকের অন্তর্গত কাব্যটিও লীলা-কোমল নয় কোনো অর্থেই। হবার কথাই নয়। জীবন্ত মানুষই নাটক করে এবং জীবন্ত ও প্রত্যক্ষ মানুষের সমুখেই তো নাটক হয়ে ওঠে নাটক-নাটকে তাই জীবন মূর্ত হয়, হতেই তাকে হয়, নিষ্করুণ সত্যতা ও বাস্তবতা নিয়ে। এবং নাট্যকার হিসেবে কখনো কখনো তাই আমাকে নাটকের কথাছন্দ হিসেবে আমার অভ্যেসের কবিতা-শরীর ত্যাগ করে গদ্য- শরীরকে গ্রহণ করতে হয়। গদ্য-কেননা, গদ্যেই কখনো আমি দরকার দেখে উঠি বাস্তবতার একটি মাত্রাকে ধরবার, এবং প্রামাণিক কিছু দৃশ্য উপকরণও আমাকে ব্যবহার করতে হয় বক্তব্যকে স্পষ্ট ও তাৎক্ষণিক করে তুলবার উপায় হিসেবে। ফলে, আমি রচনা করি এই অভিপ্রায় থেকে, যাকে আমি প্রামাণ্য-নাটক, ইংরেজি বর্ণনায় ডকুড্রামা, বলেছি ও বলি।