[হেমন্তের বেলা ন-টা। পানির শব্দ, দূরে জাহাজের সিটি-ধ্বনি, তীরে ফিরিওয়ালার হাঁকাহাঁকি, ভাটিয়ালি গানের অতি ক্ষীণ রেশ ইত্যাদির সমবেত কোলাহলের মধ্যে পর্দা উঠলে দেখা যাবে মঞ্চের অধিকাংশ স্থান জুড়ে দু-কামরাওয়ালা একটি রংদার বজরা। কোণে সামান্য উঁচু পাড়, বজরা থেকে সে পাড়ে যাতায়াতের জন্য একটা সিঁড়ি।
দর্শকের দিকে বজরাটি খোলা। পেছনে জানলাগুলির অধিকাংশ তোলা, যার ভেতর দিয়ে অপর পারের আভাস ও কিছুটা পানি দেখা যাবে। বজরার সামনে পাটাতনে বসে একটি চাকর মসলা পেষে; একটু দূরে একজন মাঝি আপন মনে দড়ি পাকায়। তারই কাছাকাছি বসে হকিকুল্লাহ্ হুঁকা টানে। ছাতে শুকায় একটি রঙিন আলখাল্লা ও পায়জামা।
বড় কামরায় হাতেম আলী চাদরে আধা-শরীর ঢেকে বহিপীরের সঙ্গে কথোপকথন করেন। তাঁর বয়স পঞ্চাশের মতো, মুখে চিন্তার ছাপ। কথা বলতে-বলতে হঠাৎ অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন। বহিপীরের বয়স কিছু বেশি কিন্তু মজবুত শরীর। মুখে আধা-পাকা দাড়ি, মাথায় চুল ছোট করে ছাঁটা।
পাশের ঘরে হাতেম আলীর ছেলে হাশেম আলী মোড়ায় বসে-বসে তার মা খোদেজা ও তাহেরার তরকারি কোটা দেখে। হাশেম আলী যুবক মানুষ; অস্থিরমতি আর একটুতে রেগে ওঠার অভ্যাস। কখনো সে পায়চারি করে, কখনো বসে, কখনো-বা লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ে। জানালার ধারে বিছানা পাতা বেঞ্চির ওপর।