'মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিটা দিন ছিল আমার কাছে বিভীষিকাময়। প্রতি মুহূর্তেই মনে হতো এই বুঝি মিলিটারিরা এসে আমার ছেলেদের নিয়ে গেল। সারাদিন কোরান শরিফ বুকে নিয়ে চোখের পানি ফেলতাম। কতজন আশ্রয় নিয়েছিল তার হিসাব রাখিনি কখনো। পরিবারের লোকজন মিলিয়ে ত্রিশজনের ওপর তো হবেই। প্রতিদিন তিন সের চালের ভাত রান্না হতো। সাথে থাকত সামান্য তরকারি। এই অল্প খাবার দিয়ে সবাই কীভাবে দিন কাটাতাম বুঝতে পারিনা আজো।' কথাগুলো বলছিলেন আগ্রাবাদ হাজিপাড়ার মুক্তিযোদ্ধা সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার মরহুম জালাল উদ্দিনের বৃদ্ধা জননী সবুরা খাতুন।
বর্তমান এক্সেস রোড সংলগ্ন বাড়িটি ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের বড় আশ্রয়স্থল। এই বাড়ির একই পরিবারের চার সন্তান জালালউদ্দিন, আলাউদ্দিন, সালাউদ্দিন ও জসিমউদ্দিন ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। এই বাড়িটিতে বিভিন্ন সময়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, ডা. মুলকুতুর রহমান, আবু সাঈদ সর্দার, মৌলবি আবু সৈয়দ, মোহাম্মদ রফিক প্রমুখ।