৫০,০০০ টাকা জমানোর লক্ষ্য নিয়ে তৈরি এই Money Saving Box-টি শুধুমাত্র একটি সাধারণ ব্যাংক নয়, বরং আপনার স্বপ্নপূরণের একটি দারুণ সাইকোলজিক্যাল টুল! আমাদের অনেকেরই টাকা জমানোর ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সঠিক ট্র্যাক বা নিয়মানুবর্তিতার অভাবে মাঝপথে গিয়ে তা আর হয়ে ওঠে না।
এই চ্যালেঞ্জ বক্সটি আপনাকে প্রতিদিন একটু একটু করে আপনার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যেসব অভিভাবক তাদের সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই ফিন্যান্সিয়াল ডিসিপ্লিন বা সঞ্চয়ের গুরুত্ব শেখাতে চান, আপনারা সবাই এই বক্সটি সংগ্রহ করতে পারেন।
কগনিটিভ সাইকোলজিতে একটা টার্ম আছে—Zeigarnik Effect। এর মূল কথা হলো, মানুষের মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ জিনিসের চেয়ে অসম্পূর্ণ বা অধরা জিনিসকে বেশি মনে রাখে এবং সেটাকে সম্পূর্ণ করার জন্য ভেতরে একটা তাড়না তৈরি হয়।
চার্টের মধ্যে যখন অল্প কিছু ঘর ফাঁকা থাকবে, তখন আপনার ব্রেইন ওটাকে একটা "অসম্পূর্ণ মিশন" হিসেবে দেখবে। ফলে দ্রুত ওই ফাঁকা ঘরগুলো কেটে ফেলার জন্য আপনি অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে টাকা জমাতে বাধ্য হবেন।
সাধারণ ব্যাংকে টাকা রাখলে অলসতা চলে আসে কারণ প্রোগ্রেসটা চোখে দেখা যায় না। কিন্তু এখানে চার্টের ফাঁকা ঘরগুলো যখন আস্তে আস্তে কাটাকুটি চিহ্নে ভরে যেতে থাকে,
তখন আপনার অবচেতন মন স্পষ্ট দেখতে পায় যে—"আমি আমার লক্ষ্যের এত পার্সেন্ট পূরণ করে ফেলেছি।" এই ভিজুয়াল ফিডব্যাক মানুষের মধ্যে একটা 'Sense of Accomplishment' বা অর্জনের অনুভূতি তৈরি করে,
যা মাঝপথে হাল ছেড়ে দেওয়া থেকে বিরত রাখে।
সাধারণ ব্যাংকে কোনো নির্দিষ্ট হিসাব থাকে না, তাই টাকা জমানোর মোটিভেশনও আলগা হয়। কিন্তু এই বক্সে আপনার লক্ষ্য নির্দিষ্ট (৫০,০০০ টাকা)। প্রতিবার ঘর কাটার সময় আপনি জানেন,
আপনি টাকা জমানোর ঠিক কতটা কাছে আছেন। সাইকোলজিতে SMART Goal (Specific, Measurable, Achievable, Relevant, Time-bound) অর্জনের যে থিওরি আছে, এই চার্টটি অবিকল সেই কাজটাই করে—আপনার লক্ষ্যকে পরিমাপযোগ্য (Measurable) বানিয়ে দেয়।
এই সেভিং বক্সটি যেভাবে কাজ করে:
বক্সটির ওপর ১০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিমাণের চমৎকার একটি চার্ট বা গ্রিড দেওয়া আছে।
১. আপনি যখনই বক্সে কোনো টাকা (যেমন: ৫০০ টাকা) রাখবেন, ওপরের চার্ট থেকে '500' সংখ্যাটি একটি মার্কার কলম দিয়ে কেটে বা টিক চিহ্ন দিয়ে দেবেন।
২. এভাবে একে একে সবগুলো সংখ্যা কাটা শেষ হলেই আপনার বক্সে অলরেডি ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা জমা হয়ে যাবে!