এশিয়া মহাদেশের পূর্বাংশে চীন দেশ অবস্থিত। চীনারা মোঙ্গলীয় নৃগোষ্ঠীর মানুষ। চীনারা ঐতিহ্যপরায়ণ জাতি। নবপোলীয় যুগে কৃষি আবিষ্কার হলে চীনেও কৃষি সভ্যতার বিকাশ লাভ করে এবং নদীতীরবর্তী অঞ্চলে নগরভিত্তিক বিভিন্ন রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। চীনা সভ্যতার পত্তন হয় হোয়াংহো ও ইয়াংসিকিয়াং নদীতীরবর্তী অঞ্চলে। উন্নত কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জলসেচ, কারিগরি বিদ্যার বিকাশ, লিপির আবিষ্কার প্রভৃতি কারণে চীনারা একটি উন্নত সভ্যতার অধিকারী হয়। চীনের সমাজ জীবনকে উন্নত ও স্থিতিশীল করার জন্য প্রখ্যাত দার্শনিক লাওৎসে ও কনফুশিয়াস উন্নত নীতিদর্শন প্রচার করেছিলেন। এর ফলে চীনে উন্নত নীতিবোধসম্পন্ন সমাজ গড়ে ওঠে। চীনা সভ্যতা ও দর্শন পার্শ্ববর্তী দেশ জাপান, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, কোরিয়া প্রভৃতি দেশে বিস্তার লাভ করে। একসময় চীনে বৌদ্ধ ও পরে ইসলাম ধর্ম প্রচারিত হয়। চীনা শাসকরা দুর্ধর্ষ যাযাবর আক্রমণকারীদের প্রতিরোধ করার জন্য চীনে মহাপ্রাচীর তৈরি করেছিলেন। ২৬৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৪.৫৭ থেকে ৯.২ মিটার বা প্রায় ১৫ থেকে ৩০ ফুট উচ্চ এই প্রাচীরকে পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যগুলোর অন্যতম মনে করা হয়। এ গ্রন্থটিতে চীনা সভ্যতার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বস্তুনিষ্টভাবে আলোচনা করা হয়েছে।